সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে চলছে যুবকদের মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জুলাই ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে চলছে যুবকদের মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা পাশাপাশি নগরীর বালুুচর নতুন বাজার এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে চলছে এই ব্যবসা। এলাকায় সন্ধ্যা হলেই বাড়ে বহিরাগত লোকদের আনাগোনা। টিলা ও বিভিন্ন গলি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ওই স্থান থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করেন মাদকসেবীরা। স্থানীয় এক যুবক প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে আসলেও ভয়ে মুখ খুলেন না কেউ।ও অনেক যুবক মাতাল হয়ে এলাকার বিভিন্ন সম্মানী ব্যক্তিদের সাথে খারাপ আচরণ ও গালিগালাজ করতে দেখাগেছে এমনকি পকেটে ছাকু অর্থাৎ ছোড়া নিয়ে প্রকাশ্য চলাফেরা করছে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি ওই এলাকাটি মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শহরের ইয়াবাসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এলাকার উঠতি বয়সী যুবকরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের এই রমরমা ব্যবসা বন্ধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
শহরের অন্তত ৩০ থেকে ৪২টি স্থানে অবৈধ এই মাদক ব্যবসার স্থান চিহ্নিত করেছেন এই প্রতিবেদক। যেখানে প্রকাশ্য গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক চক্র।
এদিকে গত কয়েএক দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির অভিযানে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সহ আটক হয়েছে অনেকেই।আটকৃতরা হলঃ
সিলেট এয়ারপোর্ট আম্বরখানার পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মো আলা উদ্দিন (৩২) মঙ্গলকাটা বর্তমান ঠিকানা: রমজান মিয়ার কলোনী বাশবাড়ি পিতা : নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
সিলেটের বিমানবন্দর থানার আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সুজিত চক্রবর্তী মো জাহিদুল ইসলাম ০১ জুলাই সোমবার একটি চৌকস টিম মাদক কারবারি মো আলা উদ্দিন (৩২) কে ৫০ পিস ইয়াবা সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান,গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
মাদক নির্মূলে আমাদের এই অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে, আমরা সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
এদিকে সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। শনিবার (২৭ জুন) রাতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
আটক মাদক কারবারির নাম মো: সেলিম আহমদ (৪৫)। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর এলাকার মরহুম শাহজাহান বাদশার ছেলে এবং বর্তমানে নগরীর কাষ্টঘর সুইপার কলোনির নতুন বিল্ডিং-১-এ বসবাস করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাষ্টঘর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় এসএমপি। এ সময় কুখ্যাত মাদক কারবারি সেলিমকে আটক করা হয়। সেইসাথে নয় হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ এক লাখ ৮৬ হাজার ২০৬ টাকা উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৮ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম।
তিনি জানান, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা দায়ের-পূর্বক আটক সেলিমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর কিছুদিন আগে সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজারের হোটেল মাশারাফিয়ার সামনে থেকে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ রোমন লাল হরিজন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, তার সঙ্গে ছিল মাদকের একটি বড় চালান।
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতেএ তথ্যটি জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা। তারা জানায়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে কোতোয়ালী থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির একদল সদস্য।
আটক রোমন লাল হরিজন (১৮) কাষ্টঘর সুইপার কলোনির ১২নং বাসার দিলু লাল হরিজন ও কাজলী লাল হরিজনের ছেলে।
এসময় তার কাছ থেকে ৯০০ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান জব্দ করা হয়।
তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (নং ৫/৪/৭/২৬) দায়ের করে রোমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম।
নগরীর কাজীটুলা এলাকার সুলতান আহমদ চৌধুরী জানান,সিলেটের জনপ্রিয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তিনি নির্বাচণের আগে মাদকদ্রব্য মরণ নেশা ইয়াবাসহ সকল প্রকার মাদকদ্রব্য ও জোয়া ও অনলাইন জোয়া সহ সকল ধরণের অপরাধ বন্ধ করবেন এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন। এমনকি গত ৩/৪ দিন আগেও একটি বক্তব্যতে তিনি বলেছেন মাদকদ্রব্য সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাবে প্রশাসন এবং এদের কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। আমি আশাকরি প্রশাসন এসব বক্তব্য শুনেছেন ও আমার বিশ্বাস প্রশাসন মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবনকারীর বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাবে।



