অনুমোদন মিললেও জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মোঃ সামছুজ্জামান ফরহাদ
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ মে ২০২৬, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে সরকারি প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গত ২৮ এপ্রিল হাসপাতালটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নির্মাণের ৩ বছর পর বহুল কাঙ্ক্ষিত এই অনুমোদন মিললেও এখনই পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছেন না উপজেলাবাসী। প্রয়োজনীয় জনবল (চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ) এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কারণে হাসপাতালটিতে বর্তমানে কেবল বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু রয়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো।
২০১৪ সালে ওসমানীনগর থানাকে উপজেলা ঘোষণার পর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গোয়ালাবাজার এলাকায় জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। ২০২০ সালের শেষদিকে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি বহুতল ভবন (হাসপাতাল ভবন, ডাক্তার ও নার্সদের ডরমিটরিসহ) নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মেসার্স পোদ্দার এন্টারপ্রাইজ ও রুপালী কন্সট্রাকশন নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের শেষদিকে কাজ শেষ করে ভবনগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
জমকালো ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মিত হলেও ইনডোর (অন্তরবিভাগ) সেবা চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবা পেতে এখনও ছুটতে হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল কিংবা সিলেট জেলা শহরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে বড় বাধা জনবল সংকট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৯ জন চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। এর মধ্যে আবার ২ জন চিকিৎসক প্রেষণে (ডেপুটেশনে) সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। নার্স, মিডওয়াইফ, ওয়ার্ডবয়, আয়া কিংবা নাইট গার্ডসহ চতুর্থ শ্রেণির কোনো স্থায়ী জনবল নেই বললেই চলে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক, যাতে আড়াই লাখ মানুষের দোরগোড়ায় প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যায়।
সদ্য প্রাপ্ত অনুমোদন এবং সংকট নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাইনুল আহসান বলেন,আমরা গত ২৮ এপ্রিল প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। তবে এই ৫০ শয্যার হাসপাতালটি পুরোদমে চালানোর জন্য এখন রাজস্ব খাতের জনবল (পদ সৃজন) এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, যা বর্তমানে আমাদের কাছে নেই। আশা করছি, খুব দ্রুতই আমরা এগুলো পেয়ে যাব।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর বলেন,হাসপাতালটির প্রশাসনিক অনুমোদন চলে এসেছে। দেশের অনেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অ্যাম্বুলেন্স আছে কিন্তু ডাক্তার নেই আমরা এই বিষয়গুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এনেছি এবং ডিও লেটারওে দিয়েছি। সারা দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাই প্রায় একই রকম, তবে সব প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। এছাড়া ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কীভাবে আরও সক্রিয় করা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিলাম না, মাত্র দুই মাস হলো এসেছি। আমাদের সামনে পর্যাপ্ত সময় আছে। নির্বাচনের আগেই আমরা এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করছি।



