
বুধবার (৮ এপ্রিল) সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে “প্রবীণ নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ ও যত্নশীল জীবন ব্যবস্থাপনায় করণীয়” শীর্ষক এক সেমিনার সেখঘাটস্থ দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সারওয়ার আলম,প্রধান আলোচকের বক্তব্য তিনি প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পেনশন-সহায়তার কার্যকারিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি , সামাজিক সম্মান বজায় রেখে ঘরোয়া ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সেবার প্রয়োজনীয়তা, পরিবার ও কমিউনিটির ভূমিকা, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সেবা সহজলভ্য করার কথা উল্লেখ করেন।
মো:সারওয়ার আলম বলেন,ষাট বছর বয়সি কিংবা এর ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা প্রবীণদের আওতাধীন, সমাজে তাদের অবস্থান সর্বাপেক্ষা উঁচুতে। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরাও একদিন প্রবীণ হবো,যদি প্রবীণদের সম্মান করি তাহলে আমরাও সম্মানের আশা করতে পারি। তিনি বলেন প্রবীণদের মনোরঞ্জনের জন্য সিলেটে কোন জায়গা নেই, আমরা আশাবাদী সরকার এবং সবার প্রচেষ্টায় সিলেটের খাদিমনগরে সিলেট প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞানের নামে সরকার থেকে বরাদ্দকৃত দুই একর জায়গার উপর প্রবীণদের জন্য একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে,এ ব্যাপারে সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তিরের ভূমিকার প্রয়োজননীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ আব্দুর রফিকের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেট সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম।
আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশ গ্রহন করেন,বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় এর উপ-পরিচালক সুবিতা রায়, সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান সিলেটের সভাপতি মো. জামিল আহমদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আবু তালেব মুরাদ, মদন মোহন কলেজের অধ্যাপক মো. ফরিদ আহমদ, সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. বশির আহমদ,মদনমোহন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাউর রহমান পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম (অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক), সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন বণিক, জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল মতিন, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পিংকু আব্দুর রহমান এবং সিলেট জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেইন।
তারা বলেন, প্রবীণদের জন্য প্রশিক্ষণাভিত্তিক বিভিন্ন প্রোগ্রাম, কমিউনিটি বেসড কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং সেবা চলমান রাখা প্রয়োজন।
অংশগ্রহণকারীরা বৃদ্ধা-প্রবীণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত সচেতনতা বাড়ানো ও আইনগত সুবিধাসমূহ সম্পর্কে স্থানীয়স্তরে জনগণকে তথ্য দেওয়া জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।