প্রবাসী ইমাম শাকিরকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগ পরিবারের
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
গত ১০ এপ্রিল সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ পর্ণোগ্রাফি মামলায় যুক্তরাজ্যে প্রবাসী শাকির আহমকে গ্রেফতার করে। তার গ্রেফতার নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তার পরিবারের দাবী, দীর্ঘ এক যুগ ধরে যুক্তরাজ্যের ড্যাগেনহাম মসজিদের ইমাম হাফিজ শাকির আহমদ (৩৬) এক ‘নোংরা ষড়যন্ত্রের’ শিকার। গত ১০ এপ্রিল সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ তাকে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার করে।
তবে শাকিরের পরিবারের দাবি, ধোপাদীঘিরপাড়ের শামীম খানের মেয়ে ফাতেমা বেগম উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল বিকেলে এসআই এস.এম মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সোবহানীঘাট এলাকা থেকে শাকির আহমদকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারায় মামলা (নং-১৮) করা হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শাকিল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
শাকির আহমদের ছোট ভাই, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যবসায়ী জাকির আহমদ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘ ২২ বছর যাবত সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছি এবং সেখানে আমাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রয়েছে। আমার ভাই শাকির দীর্ঘ এক যুগ ধরে ব্রিটেনের একটি মসজিদে অত্যন্ত সুনামের সাথে ইমামতি করে আসছেন। পূর্ব পরিচিত থাকায় ফাতেমা বেগমের পরিবারকে বিভিন্নভাবে সাহয্য সহযোগিতা করে আসছি। ফাতেমার বাবা গুরুত্ব অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার ব্যয় বার পরিবার বহন করতে পারছিলে না, সেই সুবাদে আমার ভাই বিভিন্ন সময় তাদের অনেক আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। এখন সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ফাতেমা বেগম তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এই নোংরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।” এছাড়াও বালাগঞ্জের ফারুক আহমদের সাথে ফাতেমা বেগমের বিয়েতে আমার ভাই শাকির আহমদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
সিলেট নগরীর যতরপুর মৌবন এলাকাবাসী জানান, শাকির একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ধর্মপ্রাণ এবং সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম যতরপুর হাজি ময়না মসজিদে প্রায় ৫০ বছর যাবত ইমামতি করে আসছেন। এলাকাবাসী আরও জানান, এই পরিবারটি এলাকার একটি সুনামধন্য পরিবার। ইসলামিক দিক থেকে তারা এলাকার একটি মডেল।
তার পরিবার তার মতো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফির অভিযোগ তোলা কেবল অবাস্তবই নয়, বরং এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। অর্থের লোভে বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ফাতেমা বেগম এই মামলার আশ্রয় নিয়েছেন বলে তারা মনে করছেন।
পরিবারের দাবী, শাকিল ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যায়, পরে ২০১২ ও ২০১৯ সালে দেশে আসে পরপর ২বার দেশে আসেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২১ মার্চ স্ত্রী ও ৩ সন্তানকে নিয়ে দেশে আসে। ফাতেমা বেগম, শাকিরের সাথে তার অসংখ্যবার শারীরিক সম্পর্কের যে দাবী করেছেন, তা শাকিরের দেশে আগমনের তারিখ বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় ফাতেমার দাবী সম্পন্ন মিথ্যে ও বানোয়াট।
ফাতেমা দাবী করেছেন ভিডিও কলে তার নগ্ন ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। অথচ শাকিরের মোবাইলে এধরনের কোনো ভিডিও নেই। যে ভিডিও গুলো পাওয়া গিয়েছে সেগুলো ফাতেমা বেগমের একক ভিডিও।
হাফিজ শাকির আহমদের পরিবার জানায়, বিষয়টি মিমাংসা করতে যতরপুর এলাকার একটি বাসায় বৈঠক হয়। এতে ফাতেমা বেগম ও তার ভাই শাহাদত খান ৫ লক্ষ টাকা দাবী করেন। শাকির আহমদকে হুমকি প্রদান করেন টাকা না দিলে দেখে নেয়ার।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল জাকির জানান, ফাতেমা বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি রুজু হয়েছে। ফাতেমা ও শাকিরের ২টি মোবাইলই সিআইডিতে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী কমিনিউটির মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ড্যাগেনহাম মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছানাউর আলী ও সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম খান এই ঘটনার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, হাফিজ শাকির আহমদ দীর্ঘ ১২ বছর যাবত আমাদের মসজিদে ইমামতি করে আসছেন। অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ভাবে সুনামের সহিত ইমামতি করে আসছেন। তাকে যে ভাবে সম্মানহানী করে ষড়যন্ত্র মূলক মামলায় গ্রেফতার করা হয় তা প্রবাসীদের হতাশ করেছে। আমরা প্রবাসীরা তার গ্রেফতার নিয়ে অত্যন্ত উদ্ভিগ্ন। অবিলম্বে তার মুক্তিদাবী জানাচ্ছি। শাকিরের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।




