সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কোষাধক্ষ্য আব্দুল হামিদ বিরুদ্ধে ফেইচবুকে অপ্রচার এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কোষাধক্ষ্য আব্দুল হামিদ এর বিরুদ্ধে ফেসবুকের একাধিক ফেক আইডিতে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
আজ ১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল সিলেটপোস্টেকে আব্দুল হামিদ তার এ বিরুদ্ধে ফেইসবুকের অপপ্রচার কথা জানিয়ে একটি লিখিত প্রতিবাদ ও নিন্দার বক্তব্য দিয়ে গেলে বক্তব্যটি হুবহুব তলে ধরা হল:
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একজন সেবক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কিছু কুচক্রী মহল এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে ভূয়া ফেইচবুক আইডি দিয়ে আমিসহ সিলেট বিএনপির সুনামধন্য বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য এবং ডাহা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি মনে করি, সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস আমার আছে, তাই প্রতিটি মিথ্যার বিপরীতে আমার বক্তব্য স্পষ্ট-
হ্যাঁ, আমি অতীতে লজিং থেকেছি বা শিক্ষকতা করেছি। আমি মনে করি পরিশ্রম করে বড় হওয়া কোনো অপরাধ নয়। যারা আমার শৈশব বা সংগ্রামী জীবন নিয়ে উপহাস করছে, তারা মূলত সৎ শ্রমকে অপমান করছে। আমি নিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতির মাধ্যমেই আজকের অবস্থানে এসেছি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের বদরুদ্দিন আহমদ কামরান সাহেবের স্বাক্ষর নকল করে টেন্ডারের মাধ্যমে টাকা তোলার অভিযোগ স্রেফ একটি নোংরা কল্পনা। সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি টাকা ব্যয়ের জন্য কয়েক স্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে কেউ টাকা মেরে দেবে- এমনটি বিশ্বাস করা কেবল মূর্খতার পরিচয়।
আমি সিটির কোষাধক্ষ্য পদে আছি। আমার কোন কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে হয় না।অথচ আমাকে বলা হয়েছে আমি টেন্ডার বানিজ্য করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করছি।এখন আপনাদের কাছেই বিচার দিলাম।কোষাদক্ষের কাজ কি টেন্ডার দেওয়া? এখন ভাবেন মিথ্যা প্রচার আর মুর্খতা কি লেভেল পযন্ত পৌছানো হয়েছে।
আমার বিরুদ্ধে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ইনকাম বা হাজার কোটি টাকা পাচারের যে অদ্ভুত অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিন্দুমাত্র প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। আমি আমার আয়ের প্রতিটি হিসাব সরকারের ইনকাম টেক্মে দিয়ে আসছি,আবার দিতে প্রস্তুত। কাল্পনিক সম্পদের পাহাড় সাজিয়ে যারা গল্প বানায়, তারা আসলে জনগণের চোখে আমাকে ধুলো দিতে চায়।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের যে জনৈক আবুল মিয়ার কথা বলা হচ্ছে, তাকে আমি বা আমার পরিবার কোনোদিন হুমকি দিইনি।তার প্রমাণ আবুলকে জিজ্ঞেস করলে পাওয়া যাবে। বরং আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একদল মানুষ এই ধরনের ‘ভিক্টিম’ তৈরি করে আমাকে ভূমিদস্যু বানানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। আইনের আশ্রয় নেওয়া সবার অধিকার, কিন্তু মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কাউকে সামাজিক বা মানসিকভাবে হেনস্তা করা অন্যায়।
বলা হচ্ছে আমি দুদক বা প্রশাসনকে কিনে নিয়েছি। এটি দেশের আইন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি চরম অবমাননাকর। আমি কোনো চোর বা অপরাধী নই যে আমাকে দুদকের হাত থেকে বাঁচতে হবে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যেকোনো তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমি সবসময় প্রস্তুত ছিলাম এবং থাকব।
যারা আমাকে জাতীয় মিডিয়া বা সচিবালয়ের ভয় দেখাচ্ছেন, আমি তাদের স্বাগত জানাই। সত্যের জয় একদিন হবেই। তবে মনে রাখবেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ করে কোনো সৎ মানুষকে দমানো যায় না।
একটি চক্র ভূয়া ফেসবুক আইডি খুলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তারা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, আমার না কী জমিজমা, গাড়িঘোড়া হরিণের খামার রয়েছে। অথচ পৈত্রিক সম্পত্তি বাদে ব্যাংক থেকে নেওয়া লোনে বাসা ছাড়া অস্বাভাবিক কোনো সম্পত্তি কিংবা গোপন সম্পত্তি নেই।
এছাড়া হুন্ডি ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা এবং সোনার বারের কাল্পনিক গল্প লিখে আমাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করছে। আমি এবং আমার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ভাই আজীবন সততা এবং নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্র অর্পিত দায়িত্ব পালন করে এসেছি। কোনো ধরনের অন্যায়, অনিয়ম ও মামলা,মকদ্দমার সাথে আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীর কেউ জড়িয়ে পড়ার কোনো ইতিহাস নেই। একইভাবে শ্বশুর বাড়ির লোকজনও সাদাসিধা জীবন যাপন করে যাচ্ছেন।
অপপ্রচার অপপ্রচারই। আর অপপ্রচার, মিথ্যাচার করে পার পাওয়া যায় না। সাময়িক অশান্তিতে ফেলা যায়। আর ডিজিটাল দুনিয়ায় সকল ফুটপ্রিন্ট থেকে যায়। যে বা যারা আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করছে, তাদের জন্য আইন আছে। আমিও আইনের দ্বারস্থ হয়েছি, সত্য উন্মোচিত হবে।ইনশাল্লাহ ডিজিটাল দুনিয়ার কু-চক্রীমহল শীঘ্রই আইনের বেড়াজালে আটকা পড়বে।যে বা যারা আমার চরিত্রহনন করছেন,সময় হলে ইনশাআল্লাহ ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচিত করব।
আব্দুল হামিদ
ক্যাশিয়ার, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।



